দেখেছি আমি, হে দারিদ্র্য বর্ষাকালে তোমায়।
তমিজুলের ভাঙ্গা ঘরের জীর্ণ ছাদের কোণায়।
ঘরের ছাদে ফুটো করে,
টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ে।
পলিথিনের জোড়ায় জোড়ায়,
বৃষ্টি পড়ে ফোটায় ফোটায়।
ভিজিয়েছ তার বিছানা চাদর, ভিজিয়েছ চাল ডাল।
চকিতে শুয়ে আকাশের বিজলী দেখাবে কতকাল।
দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, মুনির চাচার গায়।
চোখে মুখে তার তোমারি আঘাত, নেবেকি তার দায়।
গুনে গুনে আমি দেখাব তার,
বুকে আছে ক'টা হাড়।
ওষুধ নেই, পত্র নেই, নেই দুমুঠো ভাত।
উপোস করে কেটে যায় তার, কতনা দিবস রাত।
রোগে শোকে, দু:খ-বেদনায়, ক্লিষ্ট তার দেহ।
চিকিৎসা নেই, তুমি আছো পাশে, আর নেই আপন কেহ।
দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, শিল্প কারখানায়।
শ্রমিকেরা যেথায় জীবিকার টানে ঘাম ঝরাতে যায়।
পায়নি কিছুই শ্রমিকেরা, ঝরিয়েও রক্ত ঘাম।
নিরাপত্তা নয়, মজুরী নয়, নয় জীবনের দাম।
শ্রমিকদের প্রতি নিষ্ঠুর, ওই কারখানা মালিকের দল।
দিনরাত শুধু চুষছে তাদের রক্ত ঘামের জল।
কেন তুমি তারে মারোনি ধিক্কার ওই উচু অট্টালিকার পরে।
গড়ে উঠেছে কালো হাতে যা, শহর বন্দর নগরে।
দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি গৃহহীনের চোখের জলে।
এতোকাল তুমি পুড়েছ তারে, নির্লজ্জের ছলে।
অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, নেই ভালবাস,
শিক্ষা বিনে এভাবে আর চলবে কতমাস।
আজো কেন আছো তুমি এই সর্বহারাদের ঘরে।
শিল্পপতিদের ঘরে যাও এখনি, দ্রুত প্রস্থান করে।
ভেঙ্গে ফেল ওই দালানের ইট, আছে যত খাট পালঙ্ক।
মুক্ত করো এই সর্বহারাদের, মুছে দাও কলঙ্ক।
No comments:
Post a Comment