একটি কবিতা লিখতে বসেছি।
যে কবিতার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বর্ণ
শতশত পোষাক শ্রমিকের শ্রম ও ঘামে গড়া।
কিন্তু আজ এ কবিতা থেকে বের হয়
বায়ুশোধকের ঘ্রান।
আর কর্পুরের ঝাঁঝালো নির্যাসের সাথে
মিশে আছে লাশের গন্ধ।
আর এই গন্ধে নির্বাক হয়ে আছে
সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ।
ভারী হয়ে আছে তার আকাশ।
এ কবিতায় পড়ে ভোরবেলার শিশির,
তার সাথে মিশেছে লাশের গন্ধ,
হাহাকার করে তুলেছে কবিতার প্রতিটি ধ্বনিকে।
প্রতিটি ধ্বনি- নিখোজ স্বজনদের খুজে পেতে
আর্তনাদের মিছিল নিয়ে আসে।
এ কবিতায়- ছোট্ট মাহিন
তার বাবাকে খুজতে এসেছিল।
তার বাবা তাকে খেলনা গাড়ি
কিনে দিতে চেয়েছিল।
বাবাকে সে খুজে পেয়ছিল।
কিন্তু তার বাবা তার দিকে চোখ মেলে তাকায়নি।
তার সাথে কোন কথা বলেনি।
এ কবিতায় নাবিলের নাম লিখেছি।
তার দিদি তাকে মেরেছিল ভাত খাওয়ার
জন্য।
কিন্তু নাবিল ভাত খায়নি।
গত চারদিন ধরে তাকে আর
কেউ ভাত খেতে বলেনা, কেউ মারে না।
পপির কথা লিখেছি এ কবিতায়-
এ পৃথিবীতে মা ছাড়া যার কেউ নেই
তার কথা।
মাকে না পাওয়ার বেদনায় তার কান্না
নির্বাক করে দিয়েছে এ কবিতাকে।
এ কবিতায় সালেহার কান্না ভেসে উঠেছে,
তার স্বামী তাকে ফোন করেছিল-
"খুব তাড়াতাড়ি ফিরব"
কিন্তু তার স্বামী আর ফিরেনি।
শোকে বিহ্বল এ কবিতায় -
ষাটোর্ধ এক মায়ের কথা লিখেছি।
একমাত্র সন্তানের খোজ না পেয়ে
মুখে কোন খাবার নেয়নি গত চারদিন ধরে
শুধু অঝোর ধারায় শ্রাবন নেমেছিল তার দুচোখে।
এমনি করে শতশত মানুষের কান্নার জল
মিশে আছে এ কবিতায়।
এ জল চোখের নদীতে প্রবল বর্ষনে
স্রোতস্বিনী নদীর মতো
বিচারের দাবিতে ভেসে যায়
আমার কবিতার পাতার উপর।
বেচে যাওয়া পঙ্গুদের জন্য আর
মৃত আত্মাদের জন্য চায় সুবিচার।
No comments:
Post a Comment