var uid = '66669';
var wid = '122477';
var uid = '66669';
var wid = '122477';

Nov 28, 2014

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি

দেখেছি আমি, হে দারিদ্র্য বর্ষাকালে তোমায়।
তমিজুলের ভাঙ্গা ঘরের জীর্ণ ছাদের কোণায়।
    ঘরের ছাদে ফুটো করে,
    টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ে।
    পলিথিনের জোড়ায় জোড়ায়,
    বৃষ্টি পড়ে ফোটায় ফোটায়।
ভিজিয়েছ তার বিছানা চাদর, ভিজিয়েছ চাল ডাল।
চকিতে শুয়ে আকাশের বিজলী দেখাবে কতকাল।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, মুনির চাচার গায়।
চোখে মুখে তার তোমারি আঘাত, নেবেকি তার দায়।
      গুনে গুনে আমি দেখাব তার,
      বুকে আছে ক'টা হাড়।
      ওষুধ নেই, পত্র নেই, নেই দুমুঠো ভাত।
      উপোস করে কেটে যায় তার, কতনা দিবস রাত।
রোগে শোকে, দু:খ-বেদনায়, ক্লিষ্ট তার দেহ।
চিকিৎসা নেই, তুমি আছো পাশে, আর নেই আপন কেহ।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, শিল্প কারখানায়।
শ্রমিকেরা যেথায় জীবিকার টানে ঘাম ঝরাতে যায়।
     পায়নি কিছুই শ্রমিকেরা, ঝরিয়েও রক্ত ঘাম।
     নিরাপত্তা নয়, মজুরী নয়, নয় জীবনের দাম।
     শ্রমিকদের প্রতি নিষ্ঠুর, ওই কারখানা মালিকের দল।
     দিনরাত শুধু চুষছে তাদের রক্ত ঘামের জল।
কেন তুমি তারে মারোনি ধিক্কার ওই উচু অট্টালিকার পরে।
গড়ে উঠেছে কালো হাতে যা, শহর বন্দর নগরে।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি গৃহহীনের চোখের জলে।
এতোকাল তুমি পুড়েছ তারে, নির্লজ্জের ছলে।
     অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, নেই ভালবাস,
     শিক্ষা বিনে এভাবে আর চলবে কতমাস।
     আজো কেন আছো তুমি এই সর্বহারাদের ঘরে।
     শিল্পপতিদের ঘরে যাও এখনি, দ্রুত প্রস্থান করে।
ভেঙ্গে ফেল ওই দালানের ইট, আছে যত খাট পালঙ্ক।
মুক্ত করো এই সর্বহারাদের, মুছে দাও কলঙ্ক।

আর আমিতো চোখ বাঁধা-ই রয়ে গেছি।

বিজ্ঞান ভবন -২ আর বিজ্ঞান ভবন-৩ এর মাঝখানে আছে একটা কৃষ্ণচুড়ার গাছ তার চার পাশে আছে ইট সিমেন্ট বালুপাথর নির্মিত বসার জায়গা। এটা ছিল ইন্টারমিডিয়েট আর বিএসসি(অনার্স) ছাত্রছাত্রীদের মিলনায়তন। আমি তখন ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজের ছাত্র। আখতার স্যারের ক্লাস করব বলে কৃষ্ণচুড়ার নিচে বসেছিলাম। সেখানে একটি মেয়ে শুধু বসেছিল। মেঘলা আকাশের নিচে শুধু দুজন, আমাদের মুখে কোন কথা নেই। হঠাৎ আমি তাকে জিজ্ঞেস করে ফেলি "আপনি কিসে পড়েন?"
-বিএসসি(পাস) ফার্স্ট ইয়ার, তুমি?
-আমি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। আপনার নামটা জানতে পারি?
-সুমি, আমার নাম সুমি। তোমার নাম?
-রনি, রনি আহমেদ।
-তুমি থাক কোথায়?
-বসিরপাড়ায়, আপনি?
-হাজিপাড়া, অনন্যা ছাত্রীনিবাসে।
এভাবে আরো অনেক কথা হয় সেদিন।

পরদিন  যখন আমি কলেজের গেটে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম, বৃষ্টির জন্য ক্লাসে যেতে পারছিলাম না, ঠিক তখন-ই সুমি রিক্সা থেকে নেমে ছাতা হাতে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। আমি ডাকতেই সে আমাকে ছাতার মধ্যে টেনে নিল। কলেজ গেট থেকে বিজ্ঞান ভবন-২ পর্যন্ত পাঁচ মিনিট সময় লাগল আর ছাতাটা অনেক ছোট ছিল, তবুও প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আমরা কেউ ভিজলাম না। আমি ধন্যবাদ দিইনি।কারন সে আমার খুব ভাল বন্ধুতে পরিণত হয়েছিল।

জিলা স্কুল মাঠে ডিজিটাল মেলা হচ্ছিল। দুজনেই গেলাম আমরা। তার সাথে নাগরদোলা তে উঠতে মন চাচ্ছিল। আমি তাকে বললাম।সে নাগরদোলায় উঠতে প্রচুর ভয় পায়। কিন্তু আমার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে না পেরে রাজি হয়ে গেল। নাগরদোলা ঘুরতে শুরু কর। সে তো ভয়ে এতটুকু হয়ে গেল আর আমার হাত টা শক্ত করে ধরে রাখল। আর আমি তো তখন হাওয়ায় হাওয়ায় উড়তেছি, আমার মনে তখন অন্যরকম অনুভুতি- বলে বোঝাতে পারবনা। নাগরদোলা থেকে নামার পর আমি তাকে বললাম- "সুমি, এ হাত কোনদিন ছিড়ে দেবে না তো?"
-আমাকে বিশ্বাস হয়না তোমার?
-হয়।
-তাহলে?
-আমি তোমাকে ভালবাসি,সুমি।
সুমির মুখে কথা থেমে যায়। তার চোখ অশ্রুতে চকচক করতে থাকে। বলে- আরো আগে বলনি কেন?
-ভয়।
-কিসের ভয়?
-এমনিতেই।
-বুঝেছি, আমাকে চিনতে তোমার তাহলে এত সময় লাগল।
-জানি না। "ভালবাসি বলবেনা"?

আশ্রমপাড়া শিশুপার্কে একটি দোলনাতে বসে আছি গল্প করছি দুজনে। সুমি বলল - এইচএসসি পরীক্ষার পর আমাকে ভুলে যাবে তাই না?
-এত ঠুনকো বিশ্বাস নিয়ে ভালবাসতে নেই, সুমি। তুমি আমার প্রথম ভালবাসা, তুমিই শেষ ভালবাসা। বিশ্বাস কর, তোমাকে আমি ভুলতে পারবনা। এই মরুভুমি হৃদয়ে তোমার জন্য ভালবাসার যে প্রাসাদ গড়েছি তা আমি ভাঙতে পারবনা - অন্তত এই বিশ্বাসটুকু রেখো।

পরীক্ষার পর রংপুর চলে আসি কোচিং করার জন্য। তার নিজস্ব কোন ফোন ছিলনা। তাই মন চাইলেই তার সাথে কথা বলতে পারতাম না। ফলে খুব একটা ভাল যোগাযোগ হত না। তারপর একসময় তার আর কোন খবর পেলাম না। সে নাই হয়ে গেল।
পরে আমি কলেজে তার বান্ধবীেদর সাথে দেখা করলাম। যা জানতে পারলাম তা হল-তার বিয়ে হয়ে গেছে। সে অন্য একজনের সাথে সুখের সংসার রচনা করছে।

আমার মন এটা মেনে নিতে পারেনি কোনদিনই। তবু আমার মন কে কষ্ট পেতে দিলামনা। বললাম - এটা ছিল একটা কানামাছি খেলা, যে খেলায় সুমি আমার জীবন থেকে কানামাছি খেলে ভোঁ দৌড় দিয়ে চলে গেছে। আর আমিতো চোখ বাঁধা-ই রয়ে গেছি।

এরপর, অনেকগুলো চাঁদনিরাত, অনেকগুলো শিশিরভেজা ভোর, অনেকগুলো বৃষ্টিময় দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল সুমিকে ছাড়াই কেটে গেছে। শুধু পাশে ছিল সুমির দেয়া স্মৃতিগুলো, যে স্মৃতি আজো আমার চোখের সামনে দিয়ে বিচরন করে, কিন্তু ধরতে পারিনা।

Nov 26, 2014

প্রশ্ন ফাশ!!! শিক্ষা না কুশিক্ষা?


একটা ১০-১১ বছরের বাচচা কে যদি বলা হয়, চাঁদাবাজি করা অন্যায়, ঘুষ খাওয়া অন্যায়, খুন করা অন্যায়। তাহলে সে সেটায় শিখবে এবং এই চেতনা নিয়েই সে বড় হবে।
,,, আবার তাকে যদি হাতে ধরিয়ে চোরাকারবারি শিখানো হয়, মদের ব্যবসা শেখানে হয় তাহলে সে সেটাতে পি. এইচ.ডি ডিগ্রী পাবে কয়েক বছরের মধ্যে।
একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেয়া এই শিশুদের আমরা শিখাব কোনটা।
_____নিশ্চয় চোরাকারবারি।

হ্যা,
আমরা তাই শিখাচ্ছি।
সারাদেশে psc er প্রশ্ন পাওয়া যাচছে জিরো ফেসবুকে।আপনাকে কোন মেগাবাইট ও খরচ করতে হবেনা।

হ্যা আমরা এই শিশুদের কে কুশিক্ষাই শিখাব।এই বাচ্চারা আজই পেয়ে যাচছে অন্যায়েরর হাতে খড়ি। এভাবে jsc,ssc,hsc, এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে সে তার শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করবে। কিন্ত এই লাইফের সারবস্ত বা নির্যাস হিসেবে সে কি পেল। অবশ্যই পাবে।আর সেটা হল অমানবিক একটা মস্তিস্ক। যে মস্তিস্কে ভরে থাকবে অন্যায় দুর্নীতি আর চরম স্বার্থান্বেষী মনোভাব।

সবাইকি প্রশ্ন নেয়? তার উদাহরন টা বলি- আমার ছাত্র যে কিনা বার্ষিকে প্রতিটি বিষয়ে ৯০/৯৫ পেয়েছে, সেও চায় এই দুর্নীতি টা করতে। কারন তার আশেপাশের সবাই তাই করছে। তার দাবি সবাই না পড়ে পরীক্ষা দেয়, আর আমি এই হাড়কাপানো শীতে কেন কষ্ট করে পড়ব।
এর মানে হল, যে ছাত্রটার খুব ভাল প্রিপারেশন আছে, সেও নিজের মেধাকে মূল্য দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতেছে।

তাহলে জাতি আজ যাবে কোথায়??

সভ্যতার কন্টকাকীর্ন, দূর্গম, বন্ধুর, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পূর্বপুরুষ রা আমাদের যখন একটা আধুনিক, কুসংষ্কার মুক্ত সমাজ উপহার দিয়েছেন তখন আমরা কি দিচ্ছি আমাদের নতুন শিশুদের??

জাতির এই বিভিষীকাময় মুহুর্তে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আর বিজ্ঞমহল এটা নিয়ে ভাববেন কি????

Nov 17, 2014

শ্রাবণ দিনে

আষাঢ় গিয়াছে বিদায় নিয়া, শ্রাবণ আসিছে চলি।
আসন পাতিয়া শ্রাবণ এখন মেঘের ঝর্ণা দিয়েছে খুলি।
এমনি করে শ্রাবণ দিনে বৃষ্টি করিছে শুরু।
দিবারাত্রি সদাই ঝড়ে, ডুবিয়ে দিতে মরু।
আজ ক'টা দিন আকাশের বুকে চন্দ্র-সূর্যের রেখা।
মেঘ তাহাদের ঢাকিয়া দিয়াছে, যায়না তাদের দেখা।
আকাশের পানে সবাই চাহে, সূর্য কবে উঠে।
"সূর্য উঠেনা" এই কথাটি তারা সারা গাঁয়ে রটে।
দশদিন গেল, বার দিন গেল, পনের দিনও গেল।
তবুও শ্রাবনের বৃষ্টি পড়ার শেষতো নাহি হল।

দিগন্তজোড়া মাঠখানাতে ভরিয়া গিয়াছে জল।
আইলের ফাকে মোহনার পানি করিতেছে ছলছল।
জলেজলে সবুজ আমন ডুবিয়া গিয়ছে হায়।
তারি মাঝে হেথায় হোথায় সবুজ দেখা যায়।
রাস্তার মাঝে ছোট্ট, সেতু দুই পাশেতে বিল।
তাহার মাঝে যত্বো মাছ করিতেছে কিলবিল।
মাছ ধরিতে গ্রামবাসিতে হয়েছে অনেক ভীড়।
এদিক আবার বিলের পানি চলেছে বেশ ধীর।
লোকেরা সকল জাল ফেলিছে দুই বিলের-ই মাঝ।
জেলের বধু খলই হাতে পাচ্ছে কত লাজ।
ছেলেরা আবার মাছ ধরিছে বড়শি সুতা দিয়া।
কেউ লুটিছে কাহারও মাছ, ঝগড়া বাধিছে এ নিয়া।
মাছ ধরিতে চায় না শুধু, আলসে সব পোলায়।
জেলের সাথে খোশগল্পে সময় কাটিছে হেলায়।
ঘরেঘরে আজ মাছের গন্ধ মুখর করেছে গ্রাম।
সবার ঘরে আনন্দের উৎসব- কত সূখ কত আরাম।
অন্যদিকে তাদের আবার কষ্ট সীমাহীন।
কারো কারো ওলাওঠায় কাটছে রাত্রিদিন।
ওলাউঠা সবাইকে ধরিতে একপাশ দিয়া যায়।
নিয়ম কানুন মানিয়া কেহ সুস্থ থাকিতে চায়।

Nov 16, 2014

সাভার ট্রাজেডি- ২০১৩

একটি কবিতা লিখতে বসেছি।
যে কবিতার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বর্ণ
শতশত পোষাক শ্রমিকের শ্রম ও ঘামে গড়া।

কিন্তু আজ এ কবিতা থেকে বের হয়
বায়ুশোধকের ঘ্রান।
আর কর্পুরের ঝাঁঝালো নির্যাসের সাথে
মিশে আছে লাশের গন্ধ।
আর এই গন্ধে নির্বাক হয়ে আছে
সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ।
ভারী হয়ে আছে তার আকাশ।

এ কবিতায় পড়ে ভোরবেলার শিশির,
তার সাথে মিশেছে লাশের গন্ধ,
হাহাকার করে তুলেছে কবিতার প্রতিটি ধ্বনিকে।
প্রতিটি ধ্বনি- নিখোজ স্বজনদের খুজে পেতে
আর্তনাদের মিছিল নিয়ে আসে।

এ কবিতায়- ছোট্ট মাহিন
তার বাবাকে খুজতে এসেছিল।
তার বাবা তাকে খেলনা গাড়ি
কিনে দিতে চেয়েছিল।
বাবাকে সে খুজে পেয়ছিল।
কিন্তু তার বাবা তার দিকে চোখ মেলে তাকায়নি।
তার সাথে কোন কথা বলেনি।

এ কবিতায় নাবিলের নাম লিখেছি।
তার দিদি তাকে মেরেছিল ভাত খাওয়ার
জন্য।
কিন্তু নাবিল ভাত খায়নি।
গত চারদিন ধরে তাকে আর
কেউ ভাত খেতে বলেনা, কেউ মারে না।

পপির কথা লিখেছি এ কবিতায়-
এ পৃথিবীতে মা ছাড়া যার কেউ নেই
তার কথা।
মাকে না পাওয়ার বেদনায় তার কান্না
নির্বাক করে দিয়েছে এ কবিতাকে।

এ কবিতায় সালেহার কান্না ভেসে উঠেছে,
তার স্বামী তাকে ফোন করেছিল-
"খুব তাড়াতাড়ি ফিরব"
কিন্তু তার স্বামী আর ফিরেনি।

শোকে বিহ্বল এ কবিতায় -
ষাটোর্ধ এক মায়ের কথা লিখেছি।
একমাত্র সন্তানের খোজ না পেয়ে
মুখে কোন খাবার নেয়নি গত চারদিন ধরে
শুধু অঝোর ধারায় শ্রাবন নেমেছিল তার দুচোখে।

এমনি করে শতশত মানুষের কান্নার জল
মিশে আছে এ কবিতায়।
এ জল চোখের নদীতে প্রবল বর্ষনে
স্রোতস্বিনী নদীর মতো
বিচারের দাবিতে ভেসে যায়
আমার কবিতার পাতার উপর।
বেচে যাওয়া পঙ্গুদের জন্য আর
মৃত আত্মাদের জন্য চায় সুবিচার।

Nov 14, 2014

দীর্ঘনিশ্বাস

তুমি সবসময় বলতে ভাল করে পড় ।
মেডিকেলে ঢাবি তে চান্স নাও ।
চান্স পাই নি ।

তারপর তুমি দুরে সরে গেলে।
তারপর কালের মহাসমুদ্রে তলিয়ে যাবার আগে,
একটি শুকনো কাঠকে আকড়ে ধরেছিলাম।
তারপর সফলতার মিষ্টি স্বাদ আর পাইনি।

এখন বলি তুমি আরো সরে যাও
কোটি কোটি আলোকবর্ষ দুরে।
যেখানে যাও ভাল থেকো ,
যেমনি করে ভালো থাকে চাঁদ, হাস্নাহেনা,
ভাল থাকে রজনীগন্ধা ।

Nov 12, 2014

যে কথা হয়নি বলা

থার্টিফার্ষ্টে জিভের সামনে চায়নিজ খাবার পাই।
পহেলা বৈশাখে পান্তার সাথে ইলিশ ভাজা খাই।

আমি যখন দুপুর বেলা রেষ্টুরেন্টে যাই।
লাঞ্চের সাথে তখন আমি চিকেন ফ্রাই খাই।
লাঞ্চ সেরে দাড়ালাম যখন রেষ্টুরেন্টের গেটে।
দেখলাম ক'টা শিশুর পিঠ লেগে আছে পেটে।

পিকনিক স্পটে মজা করে খাচ্ছিলাম যখন।
আমার সামনে দাড়ালো এক অনাহারী মতন।
ব্যর্থ হল ছিনিয়ে নিতে, আমার হাতের খাবার।
বলল, আমরা না খেয়ে জীবন, কেমনে করব পার।

কফি হাউজ থেকে বন্ধুরা মিলে যাচ্ছিলাম নদীর ধারে।
কঙ্কালসার এক লোক সেথা অনাহারে ছিল পড়ে।

সেদিন দেখি ডাস্টবিন থেকে ছোট একটা ছেলে,
উচ্ছিষ্ট কিছু নষ্ট খাবার নিয়ে গেল চলে।

এসব ছবি চোখেই পড়ে, হৃদয়ে নেই নাড়া।
ফিরতি পথ ধরেই চলি, দেইনা কোন সাড়া।

Nov 11, 2014

একটি শুকনো গোলাপ

তুমি-আমি হাটছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর রোডে।
অনেক কথায় সাজিয়েছিলাম মুহুর্তটাকে।
সেদিন ছিল ২৫মার্চ,১৯৭১সাল, রাত ন'টা।
চন্দ্র তখন আবির্ভুত।
জোনাকিরা আনাগোনা করছিল চারপাশে।
চারপাশ অনেকটা নিরব।
কে যেন দুর থেকে মনের দুখে আপন মনে বাশি বাজাচ্ছিল।

আর আমরা হাটছিই।
একে অপরের পানে চাইতেই.. ... ... ...।
শুরু হল গুলিবর্ষন,
           ঝাকে ঝাকে বোমা বিস্ফোরন।

ভেঙ্গে দিল তোমার আমার গল্পের সাজানো অট্টালিকা।
ভেঙ্গে দিল সুরের গল্প।
যা বাকি রয়েছে অনেকটা,
কোনোদিন শেষও হবে না।

দুজনে ছড়িয়ে পড়লাম দুদিকে।
পথে দৌড়াচ্ছি আর ভাবছি.. .. ..  ..
এ সংসারে বুঝি তোমার সাথে দেখা নাই হবে।

তারপর.. ..
প্রতিবছর ২৫মার্চ, ২৬মার্চেরর আগমন ঘটে।
তোমাকে খুজি,পাইনা।
এমনি করে ৪১টি বছর কেটে গেল।
চুলগুলো আমার অর্ধেক পেকে গেছে।
একডজন নাতি ও নাতিনী আমাকে নানা ও দাদু বলে ডাকে।

কিন্তু তোমার সাথে আজ হঠাৎ দেখা।
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
ফুল দিতে এসেছিলে শহিদদের।
তোমাকে দেখলাম আমি আড়াল থেকে।
কিন্তু তোমাকে আমি ভালোভাবে দেখতে পারলামনা।
তুমি গাড়িতে উঠলে-
আমার মতো এক চশমা পড়া বুড়োর সাথে।
শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।
কিছু বললামনা, ডাকলাম ও না।
যেন তোমাকে দেখিনি,
দেখেছি একটি সন্ধ্যাতারা।
উদয়ের সাথেই অস্ত।

এই বুড়ো বয়সে আজো তোমার কথা মনে পড়ে।
স্মৃতির ডায়েরিটা উল্টাই।
কৃষ্ণচুড়ার নিচে, বটমুলে খেয়েছিলাম -
কত বাদাম-ঝালমুড়ি, ফুচকা- চটপটি।
তোমার কত ছলনাময়ী আচরন, কত অভিমান।
আর রাগ-অনুরাগ, হাসি কান্নার মাখামাখি।

সব-ই আজ __
জীবন  খাতার ছিন্ন পাতায় এলোমেলো পড়ে আছে।
কিন্তু একি !!!
অনেকদিন পর ডায়েরির পাতা খুলে-
পেলাম একটি শুকনো গোলাপ।

Nov 10, 2014

আকাশে অনেক মেঘ

এতক্ষনে ঘন মেঘ আকাশটাকে ঢেকে ফেলেছে।
যেন শ্রাবন বৃষ্টির বানে ডুবিয়ে দিবে দিনাজপুর শহর।
শহরটা এতক্ষনে অনেকটা ফাকা।
তারপর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল।
আমি কাকভেজা হয়ে সাইকেলের প্যাডেল মেরে বড়মাঠের দিকে আসছি।
বৃষ্টিতে ভিজছে দিনাজপুর শহর।
আকাশে বিদ্যুতের আকাবাকা রেখাগুলো তখন খেলা করছে।
চা ষ্টলগুলো ফাকা,কোন দোকানপাট খোলা নেই।
গোটা দিনাজপুর শহরটা এখন মৃত।
আমি একটা ফাকা চায়ের দোকানের সামনে থামলাম।
দোকানের টিনের ছাউনি থেকে বৃষ্টির ফোটাগুলো টিপটিপ করে পড়ছে।
শুকনো পাতার উপর বৃষ্টির শব্দ মরমর করে বাজছে।
আকাশে প্রচন্ড বজ্রধ্বনি,যেন আকাশটা আমার উপর প্রচন্ড রেগে এই গর্জন দিচ্ছে।
চারদিকে কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করছে।

ঠিক তখন-ই মনে পড়ল তোমার কথা।
তোমার আসার কথা ছিল বড় মাঠে,ঠিক এগারোটায়।
এখন এগারোটা বেজে পয়তাল্লিশ।
মুঠোফোন বের করে দেখলাম,তোমার ২৯টা মিস্ড কল।
"তুমি কি এসেছিলে,নাকি আসোনি
নাকি এসে রাগ করে চলে গেছ।""
নানান ভাবনায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম,তোমাকে কল দেওয়ার ব্যালেন্স ছিলনা আমার।
তাই সাইকেলটা নিয়ে বড় মাঠে একটা চক্কর দিয়ে বাসায় ফেরার চিন্তা করলাম।
চক্কর দিতে গিয়েই দেখি তুমি, লাল জামা সাদা ওড়না পড়ে কৃষ্ণচুড়ার নিচে বসে ভিজছো।
ভিজবেইতো, তোমার জীবনে অঝোর ধারায় ভালবাসার শ্রাবণ নেমে এসেছিল।
আর সেই শ্রাবনে ভিজিয়েছিলে আমাকে।

আমি তোমার কাছে গেলাম।
তুমি কোন কথা বললেনা আমায়।
অভিমানে আর রাগে তুমি ফেটে পড়েছিলে।
সেদিন বুঝতে পারিনি
তোমার হৃদয়ে ছিল কত বড় ভালবাসার শ্রাবণ।
কতটা অনুরাগ থেকে এই রাগ সৃষ্টি হতে পারে।
আমি বললাম, সাইকেলে উঠো।
তারপর তোমাকে তোমার বাড়ির দিকে পৌছে দিলাম।
......................................
তারপর সাতটি বছর পেরিয়ে গেল।
কর্মজীবনে দিনাজপুরে ফিরে এসেছি।
শুনেছি, তুমি নাকি দিনাজপুরেই থাকো।
তোমার সংসার হয়েছে।
কোনদিন যদি ভুল করে দেখা হয়ে যায়,
একটিবার বলবে কি "কেমন আছো"?