var uid = '66669';
var wid = '122477';
var uid = '66669';
var wid = '122477';

Dec 18, 2014

ঘরটা ছিল বন্ধ

ঘরটা ছিল বন্ধ
তাইতো এতো গন্ধ।
ঘরটা ভরা তিনটি খাটে
তিনজনেই গিয়েছে বাটে।
বিশদিন আগে গিয়েছিল
ফিরতে কেন দেরী হল।

তাই অর্ধশতেক মাকড়শা
ঘরের মধ্যে বাধল বাসা।
কি চমৎকার মাকড়শারজাল
সব ঘরে নেই আজকাল।
ঘরের মধ্যে হাজার মশা
করে শুধু শাঁ শাঁ।

ঘরে ইদুর চলে হরদম
ময়লাও তো করে নি কম।
আকিব, সাকিব, সীমান্ত যে
আজ বিকেলে ফিরল মেসে।

সবাই বলে উঠল- কি গন্ধ!!
তাদের ঘর যে ছিল বন্ধ।

অকবিতা-৫

ভয়ানক রাত।
আমি জেগে উঠলাম।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে।
আর আকাশে বজ্রধ্বনি।
আমি ভয় পাচ্ছি।

এই মুহুর্তে আব্বা আম্মাকে খুব মনে পড়ছে।
যে বৃষ্টির রাতগুলোতে আব্বা-আম্মা আমাকে অভয় দিত, বুকে জড়িয়ে নিত।
সেই বৃষ্টিভেজা রাতগুলো আজো হাতরাই।
কিন্তু ধরতে পারিনা।

কোন বিশেষ বাবা দিবস কিংবা
মা দিবস আমি জানিনা।
শুধু জানি প্রতিটি দিনই আমার কাছে
বাবা দিবস মা দিবস।

স্বার্থের টানে প্রবাসে এসেছি।
বাবা মাকে প্রতিটি ক্ষনেই মনে পড়ে
আর দুচোখ ভিজে আসে।

তাই আমি হোমসিক।

(যশোর,জুলাই,২০১৩ইং)।

রানা প্লাজার পেতাত্মা

আমি গার্মেন্টসকর্মী জহির
হ্যা আমি জহিরের পেতাত্মা।
না, আমি কিছু মৃত স্বপ্ন
সুতোয় বোনা মৃত স্বপ্ন।

আমি তো কিছু মানুষের ভালবাসা।
আমিতো নীলাকে ভালোবেসে ছিলাম।
নীলাকে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেছিলাম।

তোমরা আমার স্বপ্নকে এভাবে মেরে ফেললে?

আমি আমার মায়ের স্বপ্ন ছিলাম।
মাকে বলেছিলাম-
তুমি চিন্তা করোনা মা।
এবার সত্যিই বাড়ি চলে আসব।
তোমাকে আর একা একা কাজ করতে হবে না।
তোমার ঘরে একটা বউ এনে দেব মা।

বাবাকে বলেছিলাম-
পূর্বপাশের জমিটা বিক্রি করোনা বাবা।
আমি তোমাকে টাকা পাঠিয়ে দিব।
তাই দিয়ে কৃষি ব্যাংকের ঋন শোধ কর।

আমি বাবা-মায়ের কথা রাখিনি।
তোমরা কেন আমার স্বপ্নগুলোকে হত্যা করলে?
কেন কেন কেন?

অকবিতা -৭

আমিও একসময় ওদের মত ছিলাম।
এখনকার ছেলেদের দোষ দিয়ে আর কি হবে?
আমি নিজেই তো সারাজীবন স্বার্থের পিছনে ছুটেছি।
নিজের ভালটা বুঝেছি।
নিজের আরাম আয়েশকেই প্রাধান্য দিয়েছি।

"ভাল খেতে হবে ভাল পড়তে হবে" এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলাম।

বাবা মা নিজে কষ্ট করত,
আমাকে কষ্ট করতে দিত না।
নিজে তিনবেলা আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেত,
পুরাতন কাপড় পড়ত,
অথবা ছেড়া, তালি দেয়া কাপড় পড়ত।
নিজেদের অসুখের চিকিতসা
সময়মত করত না।

অথচ
আমার জন্য চাওয়ামাত্র টাকা পাঠাত।
আবার বলত, ডিম কিনে খাবি
দুধ কিনে খাবি, শরীেরর যত্ন নিবি।

পড়াশুনা যা করার করতাম,
ফালতু খরচ করতাম তার চেয়ে বেশি।
বান্ধবীকে গিফট কিনে দিতাম।

তারপর একদিন পড়াশুনা শেষে জব শুরু করেছিলাম।
বিয়ে করলাম, বউ নিয়ে শহরে থাকতাম।
বাবা মাকে দেখতে যাওয়া দুরের কথা,
খোজখবর নেওয়ার সময় হতনা।

ঈদে যাওয়া হত ৩/৪দিনের জন্য,
তার মধ্যে দুদিন কাটত শশুরবাড়ি।

এভাবে আমি এগিয়ে যেতাম স্বার্থপরতার দিকে।

আর নিরবে নিভৃতে কাদত এই অবলা প্রানীদুটির কষ্টগুলো।

ধন্যবাদ আপনাকে

তৃতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল সেদিন।সকাল সাড়ে আটটার বিশ্ববিদ্যালয় বাসের জন্য
অপেক্ষা করছি পালবারি মোড় এ
আমি আর নাজিম। এক মোটর সাইকেল ওয়ালা বেশ ভদ্রলোক। প্যান্টশার্ট ইন করা। কথাবার্তায়ও ভদ্রতার ছাপ।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন এখান
থেকে ক্যাম্পাস বাস ভাড়া কত?
আমি বললাম সাধারন যাত্রিদের
ভাড়া দশ টাকা আর আমরা স্টুডেন্ট
ভাড়া দেই পাঁচ টাকা তিনি বললেন,
আমিও  ঐদিকে যাব, তোমরা আমার
সাথে চল। আর তোমরা দুজন মিলে আমাকে দশ টাকা দিও। আমি বললাম- ভাই
ধন্যবাদ আপনাকে, আমাদের
ইউনিভার্সিটি বাস
আছে, বাসের জন্য অপেক্ষা করছি ।
কি জানি? লোকটা আমাদের উপকার
করতে চেয়েছিল কি না। ধন্যবাদ
সেই লোক কে ।

অকবিতা-৩

হয়তো আমি একজন,
পৃথিবীর অন্যতম সেরা সুখী মানুষ।
কারন কেউ আমাকে কখনো ভুল
বুঝেনা।
বাবা মা ভাইবোন অসম্ভব স্নেহ
করে ।
বন্ধুরা অনেক সাপোর্ট
করে আমাকে।
সবার কাছে বন্ধুত্ব নামক জিনিস
টা পাই।
তবু আমার মাঝে শুন্যতা ভর করে আছে।
আমি একা নই,
কিন্তু একাকীত্ব অনুভব করি।
বুকের মাঝে যেন গগনবিদারী হাহাকার।

অকবিতা-১

কিছু কিছু ঘা শুকাতে,
এতো দেরি লাগে কেন ?
মম অন্তর মাঝে এতো ক্ষত কেন ?
কিসের বেদনা,
আঘাতের নাম নিয়ে
বুকে এসে বিধে?
কেন আমার ভাল
লাগে না কোনোকিছুতে।
আমি একটু মেডিসিন চাই।
আমার হৃদয়ের ঘা সারানোর জন্য।

Dec 14, 2014

আড্ডাবাজি

ক্যাম্পাসের সবচেয়ে কয়েকটি জনপ্রিয় আড্ডাস্থল:-
Jessore University of Science & Technology (JUST)

#সামসু মামার চায়ের দোকান:
ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় চায়ের দোকান। সব বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা এখানে ক্লাসের ফাকে অন্তত একবার হলেও উকি মারতে আসে। বড় ভাইয়া আপুরা পড়াশুনা শেষে ক্যাম্পাস থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের শুন্যতা অনুভব করি। যদিও দোকানে সবসময় ভীড় পরিলক্ষিত হয়। যেন মান্নাদে'র ""কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই......." এর মত।

#নিমতলা
সামসু মামার দোকান থেকে কিছুটা দুরে এটি অবস্থিত। চা বিস্কুট খাওয়ার জন্যও এটি প্রসিদ্ধ।  এটিও সবসময় ছাত্রছাত্রীদের পদচারনায় মুখর থাকে।

#খালেদাজিয়া চত্বরঃ
নিমতলা থেকে কিছু পথ হাটলেই পাবেন এই চত্বর। বসার জন্য চমকপ্রদ কিছু সিড়িও পাবেন এখানে। ছাত্রছাত্রীদের চায়ের আড্ডার জন্য অন্যতম একটি। সাথে থাকে নানা প্রকার গল্প আর হাসি আনন্দের সমাহার।

#ফিশারিজ পুকুর:
এখানে ২০টি পুকুর আছে।এটা প্রেমযুগলদের জন্য খুব সুন্দর একটি জায়গা। তবে এটি জঙ্গলময় নয়। এখানে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদেরও দেখা মিলে।

#বাবলাতলাঃ
ফিশারিজ পুকুরের দক্ষিণে অবস্থিত।
এটি মুলত আড্ডাখানা।

#অর্জুনতলা:
সম্প্রতি এটি খুবি জনপ্রিয় একটি আড্ডাখানা হয়ে উঠেছে। এটি একাডেমিক বিল্ডিংয়ের দক্ষিনে অবস্থিত। একাডেমিক বিল্ডিং থেকে এখানে আসতে দশ মিনিট সময় লাগে।

#শেখ হাসিনা চত্বরঃ
এখানে দুপুর ২টার বাসের জন্য সবাই অপেক্ষা করতো। ইদানিং বাসগুলো অবস্থান পরিবর্তন করায় সেটা হচ্ছেনা। তবে মসজিদ এবং দুই হলের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে যে কারোরই অবস্থান লক্ষ করা যায়। এটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে অবস্থিত।

#কদমতলা:
মুলত আড্ডাখানা। শেখহাসিনা চত্বরের উত্তর পাশে অবস্থিত।

#বকুলতলা:
মুলত আড্ডাখানা। শেখহাসিনা চত্বরের পুর্বপাশে অবস্থিত।

#শিক্ষার্থী ছাউনী:
ছাত্রছাত্রীদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থল।এখানে বসে থাকার অনেক সিট থাকায় সবাই ইচ্ছামতো সময় পার করে। প্রধান ফটকের দক্ষিনে অবস্থিত।

#প্রত্যাবর্তন ৭১:
এটি প্রধান ভাস্কর্য।আড্ডাবাজিতে এটিও কম যায়না।

#ক্যাফেটেরিয়া:
খেতে খেতে আড্ডা। প্রায় অনেক খাবার পাবেন আপনার সাধ্যের নাগালে।

#ক্যাফেটেরিয়া ২য় তলা:
এখানে আমি খুব একটা আসিনি। তবে আমাদের বন্ধু সোনিয়ার বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলাম এখানে। (সোনিয়া এখন মার্কিন নাগরিক)।

#কৃষ্ণচুড়া চত্বরঃ
আড্ডাবাজির অন্যতম প্রসিদ্ধ জায়গা।

#প্রধান স্টেডিয়ামঃ
যেকোন ক্রীড়া (ফুটবল,হ্যান্ডবল,ক্রিকেট প্রভৃতি) প্রতিযোগিতার জন্য এই মাঠটি। এখানে একসাথে দুইটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলা সম্ভব।

#ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেটি আইপি কর্মশালার দক্ষিনে অবস্থিত, এটি খুব ভাল মাঠ না হলেও এই মাঠ কখনো ফাকা থাকেনা। এই মাঠের একপাশে ভলিবল ও খেলা হয়।
_________________

Dec 13, 2014

যবিপ্রবিতে শোকের মাতম, চাপা ক্ষোভ ও কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাস


যবিপ্রবিতে (যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয়) ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়কে প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় এপর্যন্ত নিহত হয় মোট পাঁচ শিক্ষার্থী। অথচ এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

মুলঘটনা:
গত ১২ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন যশোর-চৌগাছা সড়কের পুলতাডাঙ্গায় গতকাল শুক্রবার ট্রাক ও নছিমনের সংঘর্ষে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই ছাত্রীসহ ১৬ জন।
দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বাধা দিলে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় চার ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবু হানিফ (২২) এবং চৌগাছা উপজেলার আফরা গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান (২৮) ও খাদিজা বেগম (৪৫) এবং একই উপজেলার ফুলসরা গ্রামের খায়রুল ইসলাম (৪৮)।
নিহত ছাত্র হানিফের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুমারজানী গ্রামে। বাবার নাম রফিক মিয়া। হানিফ এ বছর জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ১১০ মিটার হার্ডলস দৌড়ে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিন সুলতানা বিথী, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী বাসবি ভট্টাচার্যসহ ১৬ জনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ-

স্ট্যাটাস-:
আমাদের চোখের সামনে দিয়ে এক এক করে সাত সাতটা তাজা প্রান ঝরে গেছে। সামনের সিরিয়াল কার!!!!!! এই প্রশ্ন আমাদের মনে জাগাটা খুবই স্বাভাবিক। এটা যে কেউ হতে পারে। মৃত্যু যে কারো যখন তখন হতে পারে, তবে এই মৃত্যু কারো কাম্য নয়। এই মৃত্যুকে এড়ানো অনেকখানি সম্ভব ছিল আমাদের জন্য। আমরা সেশন জটের ভয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভয়ে, রেজাল্ট খারাপের ভয়ে কেউ কোন কাজের কথা বললে, আন্দোলনের কথা বললে সামনে যায় না। যদি পৃথিবীতে বাঁচতেই না পারলাম যদি হানিফের পরের সিরিয়ালটা আমার চলে আসে তবে কি হবে এই পড়াশুনা, এই বিশাল বিশাল রেজাল্ট দিয়ে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন নিয়ে আছে বিস্তর অভিযোগ। বাস এর ঘাটতি খুব বেশী আছে বলে আমার মনে হয় না তবে ঘাটতি রয়ে গেছে ওই প্রশাসনের বড় বড় চেয়ারে বসা মানুষগুলোর মন মানসিকতার। তারা কি আমাদের ক্ষোভ কিছুই জানেন না? তারা কি কিছুই দেখেন না? তাদের সামনেই তোঁ এতগুলো ছাত্রছাত্রী মারা গেলো, তাদের কি একটুও দয়া হয় না? ছেলে মেয়ে আত্মীয় স্বজন কিছু নাই তাদের? তারা ছাত্রদের দুর্বলতা নিয়ে হাসি তামাশা করেন। তারা মিনিটে মিনিটে রেজাল্ট, সার্টিফিকেট এর ভয় দেখান। তারা কি পারতেন না পরিবহন সুবিধা একটু বাড়াতে? ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ হওয়ার শ্রেষ্ঠ স্থান। আমাদের যারা মানুষ করবেন তারা যদি আমাদের সাথে অমানুষের মত আচরণ করেন তবে আমরা কি শিখবো?

স্ট্যাটাস-:
গুরুতর আহত শিক্ষার্থী বিথী কে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়নি । বিথীকে যশোর সেনাবাহিনীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত CMH হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল । ভিসি এর গড়িমসি আর দ্রুত টাকা জমা না দিয়ার কারনে আহত শিক্ষার্থী বিথীকে CMH হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল । প্রথমে হেলিকাপ্টার যোগে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে তাকে এয়ার এম্বুলেঞ্চে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করা হয় । এই দিকে যশোর সদর হাসপাতাল এ তার অবস্তা করুন হতে থাকে । যশোর সদর হাসপাতাল এ অক্সিজেন এর অভাব, নার্সরা দায়িত্বহীন থাকার কারনে সেই সময়ে উপস্থিত থাকা শাহারিয়ার, অয়ন, ফারুক, অন্তরদের এর চাপ এর মুখে পরে হাসপাতাল এর ভিতরে তার সেবা সরবরাহের চেষ্টা করা হয় । পরে হাসপাতালে রক্তক্ষরণ আর বমি বেশি হতে থাকলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতায় বিথীকে দ্রুত যশোর CMH হাসপাতালে নেয়া হলে কিছুটা আশঙ্কামুক্ত হওয়া যায় । আহত শিক্ষার্থী বিথী এখন CMH হাসপাতালে আছে । বিথী এখন আশঙ্কামুক্ত চিকিৎসকরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদি যশোর সদর হাসপাতাল এ বেশি কিছুখন থাকত তাহলে তাকে হইত আমরা পেতাম না । আমাদের ভিসি স্যার আর কথা মতো যদি ফরিদপুর হয়ে লঞ্চ পার হয়ে এম্বুলেঞ্চে করে ঢাকা যেত তাহলে এতক্ষণে কি হতো জানি না । আমাদের ভিসি স্যার কোটি কোটি টাকার বাজেট নিয়ে আসছেন ভার্সিটিতে ,,আশেপাশের সকল এমপি-মন্ত্রি তার কত পরিচিত, তার এক কথায় প্রশাসন চুপ হয়ে যায় , আথচ সামান্য দুই লক্ষ টাকা তিনি সেই সময় জোগাড় করতে পারলেন না । এইটা আমাদের কাছে অতান্তই দুঃখ জনক ।।।

স্ট্যাটাস-৩:
যবিপ্রবি ছাত্র নিহতের
প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
এবার বিচার না হওয়ার এক সেকেন্ড আগেও
ঘরে ফিরা হবে না,বার বার স্টুডেন্ট
মারা যাবে গাড়ি এক্সিডেন্ট এ আর তার
কোন বিচার হবে না তা এবার আর হবে না।
আমাদের এক ভাই মারা গেছে ১ বোনের
অবস্থা খুব খারাপ আরো কয়জন গুরুতুরু আহত এই
শোকেই আমরা কাতর তারপরেও আমাদের উপর
গ্রামবাসীর আক্রমণ, আমাদের কি দোষ?
আমার ভাই,বোন
মারা যাবে আমরা কাঁদতে পারবো না?
যবিপ্রবিতে পড়াশোনা করাই কি আমাদের
দোষ?? সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই এর
বিচার চাই তদন্ত কমিটি গঠন পর্যন্তই যেন শেষ
না হয়।

স্ট্যাটাস-৪:
কাঁদো ইলিয়াস কাঞ্চন কাঁদো
নিরাপদ সড়ক পেয়েছ কি?
,,,,,,আমরা যে শোকে মুহ্যমান।
যশোর বিজ্ঞান‬ ও ‪প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়‬।

শেষকথা:
বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কেন এত দুর্ঘটনা ঘটে? জানতে চাইলে উপাচার্য আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে জানান, যশোর-চৌগাছা সড়কটি অত্যন্ত সরু। তা ছাড়া এ সড়কে অবৈধ যানবাহনের চলাচল বেশি। যে কারণে সড়কটি চলাচলে একদমই নিরাপদ নয়।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এ সড়কে যাতে বৈধ ও ভালোমানের যানবাহন চলাচল করে সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের সিন্ডিকেটের কারণে এটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশরাফুজ্জামান জাহিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহর পর্যন্ত বিশেষ বাসের ব্যবস্থা, নছিমন-করিমনসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়নি।

Dec 11, 2014

তুই একটা জিনিস চুরি করেছিস

বসিরপাড়ার "তেরে নাম ছাত্রাবাস" আর "সোহাগ ছাত্রাবাস" পাশাপাশি হওয়ায় রাহাতের সাথে আমার নিয়মিত দেখা এবং আড্ডা দুটোই হত। আমরা দুটাই হলাম ভদ্র বান্দর, বলতে গেলে আবাল বান্দর। আড্ডার বিষয়বস্তু সাধারণত থাকত "প্রেম ভালবাসা" নিয়ে। আমি তখন একজন চলমান প্রেমিক। তাই রাহাত আমাকে দিয়ে কাজটা করাতে চাইল। আমাকে বলেই ফেলল- দোস্ত আমি একজনকে পছন্দ করে ফেলেছি।
-বলিস কি? মেয়েটা কে?
লাজুক স্বরে রাহাত বলল-অনু।
-অনু? অনুটা আবার কে?
-ভাব নিস আমার কাছে, অনুকে  চিনিসনা? বেটা, বসের বাসায় একসাথে ফিজিক্স প্রাইভেট পড়িস, অনুকে  চিনিসনা?
-না দোষ, অনু নামের কেউ আমাদের সাথে পড়েনা।
-আরে বেটা, তুই রিফাত, নাসিম, বরকত দের সাথে পড়িস না?
-হু পড়ি।
-কালো একটা বোরকা পড়ে। দেবিগন্জ বাড়ি।
-ওহ ইয়েস বুঝেছি, ঠিক করে নাম বলবি না? ওর তো আরো একটা নাম আছে (নামটা বললাম না)।

সময়টা তখন ২০১১ সাল। আমাদের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলতেছিল।  এজন্য বন্ধুদের সাথে নিয়মিত দেখাও হত না, শুধু পরীক্ষার দিন ছাড়া। যাই হোক শুরুটা করতে হবে আমাকেই। কারন প্রেম শুরু করার জন্য ক্যটালিস্ট কিংবা এনজাইমের প্রয়োজন হয়। অসাহসী প্রেমিকরা নিজে নিজে প্রেম শুরু করতে পারেনা প্রভাবক ছাড়া। যদিও রাহাত অসাহসী নয়, তবু প্রেমের মুখোমুখি হওয়ার সময় ওর বুকটা হয়তো একটু কেঁপেই উঠেছিল।
(এখানে অসাহসী অর্থ হল সামান্য সাহসী, তবে কাপুরুষ নয়।)

সেদিন থেকে থিউরি পরীক্ষা শেষ। উদ্ভিদবিদ্যা (তত্বীয়) পরীক্ষা। ঠাকুরগাঁও সরকারী মহিলা কলেজে আমাদের পরীক্ষা হচ্ছিল। পরীক্ষা হলে ঢুকার সাথেই রাহাতকে বলে রাখলাম- দোস ১৫ মিনিট আগেই বের হব।
রাহাত বলল, ঠিক আছে।

সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য! সময় মাত্র ১৫মিনিট বাকি।আরো ১২ মার্কস বাকি। আমার সামনের জনের সাথে কথা বলতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলাম। দ্বায়িত্বরত শিক্ষক আমার খাতা টেনে নিল। অগত্যা বের হয়ে চলে আসলাম।

ভাবলাম রাহাত ও বের হবে। নাহ, শালা লিখতেই আছে।
গেটে দাড়িয়ে আছি। তখনো কেউ বের হয়নি। হঠাৎ বের হয়ে আসল লামিয়া, অনুর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। বললাম, অনু কই?
-এইতো একটু পরেইই বের হবে। এই বলতেই বেরিয়ে আসল অনু।
-অনু দাড়া, কথা আছে।
-কি কথা?
-তুই আমার একটা জিনিস চুরি করেছিস।আমার ঠিক না, আমার এক বন্ধুর।
-কি জিনিস?কার?
-ওর মুখেই শুনিস, ও এক্ষুনি বের হয়ে আসবে।

ঘন্টা পড়ে গেল, রাহাতের বের হওয়ার কোন নামই নেই। আমি দাড়িয়ে আছি, সাথে অনু। একটা বিরক্তিকর দশ মিনিট সময় পার করার পর চলে আসল রাহাত। অনুকে বললাম- এই হল সেই ব্যক্তি, যার জিনিস তুই চুরি করেছিস। তোরা গল্প কর্  - এই বলে আমি সামনে হাটতে লাগলাম, ওরা দুজন আমার পিছনে।
ওদের গল্পগুলো আমি আধো আধো শুনতে পাচ্ছি। বেশিরভাগ প্রশ্ন রাহাতই করতেছে, আর অনু শুধু উত্তর দিচ্ছে। রাহাত যেন তার ভাইভা নিচ্ছে। নিজের তৈরী প্রেম ইন্ডাষ্ট্রিতে অনুকে চাকরি দিবে, বিষয়টা এমন। কেমন পরীক্ষা দিয়েছ, কোথায় কোচিং করবে, মোবাইল ফোন ব্যবহার কর কি না -এই টাইপের প্রশ্ন করছিল রাহাত। এভাবে কথা বলতে বলতে অনুর মেস পর্যন্ত চলে আসি। সেদিন এতটুকুই।

যাইহোক ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি থাকায় আরো ক'টা দিন দেখা করার সুযোগ হয়েছিল অনুর সাথে।আমার এই অসাহসী বন্ধুটা অবশেষে ঠাকুরগাঁও প্রস্থানের আগেই তার প্রেমকুমারীর মোবাইল নম্বরটা নিতে পেরেছিল।যদিও অনু বলেছিল- এটা আমার নম্বর না,এটা আমার ভাইয়ার নম্বর। অনু হয়তো মিথ্যা বলেছিল রাহাতকে এড়িয়ে চলার জন্য।
রাহাত আমাকে বলল- দোস্ত নম্বর তো নিলাম, কিন্তু মনের কথাটা বলি কেমনে?
আমি বললাম- দাড়া, হুট করে বলে দিলি, সে না করল, তখন কি করবি? তাই আগে ভাল একটা সম্পর্ক তৈরী কর, তার মনের অবস্থা নিজেই বুঝতে পারবি, তখন বলিস।

রাহাত কোচিং করার জন্য ঢাকা চলে গেল, আর অনু রংপুর। ফোনে কথা হচ্ছে নিয়মিত দুজনের। এভাবে কথা বলতে বলতে রাহাত একদিন বলে ফেলে- অনু আমি তোমাকে ভালবাসি।
অনু বলে- দেখ রাহাত,  আমরা বন্ধু ছিলাম বন্ধু থাকি,এর মধ্যে প্রেম-ভালবাসা জিনিসটাকে আনতে যেওনা।ওসব আমার একদম ভাল লাগেনা। বাবা মা যার সাথে বিয়ে দিবে তাকেই বিয়ে করব।নিজে পছন্দ করে তাদেরকে কষ্ট দিতে চাইনা।

রাহাত একটুও আশাহত হলনা। ভাবল- এখন হয়তো রাজি হচ্ছে না, দুদিন পর ঠিকই রাজি হয়ে যাবে।
দুজনে আগের মতই কথা বলতেছে, যেন তারা কত জনমের বন্ধু। এমনভাবে ওরা কথা বলছে, যে কেউ খেয়াল করলে মনে করবে এরা প্রেম করছে। কিন্তু আসলে বিষয়টা তা নয়। পাখিকে আদরযত্ন দেয়া হয় ঠিকই, কিন্তু পাখি পোষ মানে না।

রাহাত মাঝে মাঝে রংপুর আসত পাখির সাথে দেখা করতে। পাখি আবার দেখা সাক্ষাত মুলক বন্ধুত্বপূর্ন আচরনে ঠিকই সারা দিত।
ওরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও গিয়েছিল। বাদ যায়নি তাজহাট জমিদারবাড়ি, বাদ যায়নি সুরভি উদ্যান, রংপুর চিড়িয়াখানা, বাদ যায়নি হস্তকুটির শিল্পমেলা,বাদ যায়নি নাগরদোলা। রংপুরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, যেমন- মামুনি রেস্টুরেন্ট, বৈশাখী রেস্টুরেন্ট- এগুলোও মুখর ছিল তাদের দুজনের পদচারনায়। বার্থডে গিফট আদান-প্রদান এটাও বাদ যায়নি। তবে রাহাত কেন মেনে নিবে- অনু তারে ভালবাসে না? অবশ্যই বাসে, নাহলে এসব কি?

এভাবে চলতে চলতে তিনটি বছর কেটে গেল। নাহ, অনু তার সিদ্ধান্তে অটল। ভালবাসার পাখি পোষ মানলই না।
অনু একদিন রাহাত কে ফোন করে বলে- রাহাত, আমার বিয়ের কথা চলছে, আগামী সপ্তাহে আমাকে ওরা দেখতে আসবে। তুমি কি কিছু বলবে?
রাহাতের মুখে কথা সরেনা, রাহাতের বলার কিছু নেই, কারন রাহাতের বিয়ের এখনো সময় হয়নি। সে সবে মাত্র অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে।

কিছুদিন পর অনুকে রাহাত ফোন দেয়, ওপাশ থেকে যা শোনা যায় তা হল "এই মহুর্তে আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটিতে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না, অনুগ্রহ করে একটু পড়ে আবার ডায়াল করুন, ধন্যবাদ"।
অনুগ্রহ করে একটু পরে রাহাত ঠিকই ডায়াল করেছিল। কিন্তু রিং হয়নি কখোনোই।

রাহাত হয়তো প্রচন্ড আঘাত পেয়ছিল। তবু পুরুষ মানুষ বলে কথা। সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবেই নিল রাহাত। তবে সঙ্গী হিসেবে একজনকে সে ঠিকই বেছে নিল আর সেটা হল- গোল্ডলিফ সিগারেট।
রাহাতের সাথে মাঝে মাঝে দেখা হলে সে তার এই বেদনাভেজা গল্পগুলো শেয়ার করত। তার রুমমেট জুয়েল এসব শুনে তো চোখের জলই ছেড়ে দিত।তারপর জুয়েল একটা গামলা নিয়ে আসত, বাজানো শুরু করত আর আমরা তিনজনেই গান ধরতাম -"প্রেমেরই নাম বেদনা,সেকথা বুঝিনি আগে। দুটি প্রানের সাধনা কেন যে.......... "।

Nov 28, 2014

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি

দেখেছি আমি, হে দারিদ্র্য বর্ষাকালে তোমায়।
তমিজুলের ভাঙ্গা ঘরের জীর্ণ ছাদের কোণায়।
    ঘরের ছাদে ফুটো করে,
    টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ে।
    পলিথিনের জোড়ায় জোড়ায়,
    বৃষ্টি পড়ে ফোটায় ফোটায়।
ভিজিয়েছ তার বিছানা চাদর, ভিজিয়েছ চাল ডাল।
চকিতে শুয়ে আকাশের বিজলী দেখাবে কতকাল।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, মুনির চাচার গায়।
চোখে মুখে তার তোমারি আঘাত, নেবেকি তার দায়।
      গুনে গুনে আমি দেখাব তার,
      বুকে আছে ক'টা হাড়।
      ওষুধ নেই, পত্র নেই, নেই দুমুঠো ভাত।
      উপোস করে কেটে যায় তার, কতনা দিবস রাত।
রোগে শোকে, দু:খ-বেদনায়, ক্লিষ্ট তার দেহ।
চিকিৎসা নেই, তুমি আছো পাশে, আর নেই আপন কেহ।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি, শিল্প কারখানায়।
শ্রমিকেরা যেথায় জীবিকার টানে ঘাম ঝরাতে যায়।
     পায়নি কিছুই শ্রমিকেরা, ঝরিয়েও রক্ত ঘাম।
     নিরাপত্তা নয়, মজুরী নয়, নয় জীবনের দাম।
     শ্রমিকদের প্রতি নিষ্ঠুর, ওই কারখানা মালিকের দল।
     দিনরাত শুধু চুষছে তাদের রক্ত ঘামের জল।
কেন তুমি তারে মারোনি ধিক্কার ওই উচু অট্টালিকার পরে।
গড়ে উঠেছে কালো হাতে যা, শহর বন্দর নগরে।

দারিদ্র্য তোমায় দেখেছি আমি গৃহহীনের চোখের জলে।
এতোকাল তুমি পুড়েছ তারে, নির্লজ্জের ছলে।
     অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, নেই ভালবাস,
     শিক্ষা বিনে এভাবে আর চলবে কতমাস।
     আজো কেন আছো তুমি এই সর্বহারাদের ঘরে।
     শিল্পপতিদের ঘরে যাও এখনি, দ্রুত প্রস্থান করে।
ভেঙ্গে ফেল ওই দালানের ইট, আছে যত খাট পালঙ্ক।
মুক্ত করো এই সর্বহারাদের, মুছে দাও কলঙ্ক।

আর আমিতো চোখ বাঁধা-ই রয়ে গেছি।

বিজ্ঞান ভবন -২ আর বিজ্ঞান ভবন-৩ এর মাঝখানে আছে একটা কৃষ্ণচুড়ার গাছ তার চার পাশে আছে ইট সিমেন্ট বালুপাথর নির্মিত বসার জায়গা। এটা ছিল ইন্টারমিডিয়েট আর বিএসসি(অনার্স) ছাত্রছাত্রীদের মিলনায়তন। আমি তখন ঠাকুরগাঁও সরকারী কলেজের ছাত্র। আখতার স্যারের ক্লাস করব বলে কৃষ্ণচুড়ার নিচে বসেছিলাম। সেখানে একটি মেয়ে শুধু বসেছিল। মেঘলা আকাশের নিচে শুধু দুজন, আমাদের মুখে কোন কথা নেই। হঠাৎ আমি তাকে জিজ্ঞেস করে ফেলি "আপনি কিসে পড়েন?"
-বিএসসি(পাস) ফার্স্ট ইয়ার, তুমি?
-আমি দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। আপনার নামটা জানতে পারি?
-সুমি, আমার নাম সুমি। তোমার নাম?
-রনি, রনি আহমেদ।
-তুমি থাক কোথায়?
-বসিরপাড়ায়, আপনি?
-হাজিপাড়া, অনন্যা ছাত্রীনিবাসে।
এভাবে আরো অনেক কথা হয় সেদিন।

পরদিন  যখন আমি কলেজের গেটে একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম, বৃষ্টির জন্য ক্লাসে যেতে পারছিলাম না, ঠিক তখন-ই সুমি রিক্সা থেকে নেমে ছাতা হাতে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। আমি ডাকতেই সে আমাকে ছাতার মধ্যে টেনে নিল। কলেজ গেট থেকে বিজ্ঞান ভবন-২ পর্যন্ত পাঁচ মিনিট সময় লাগল আর ছাতাটা অনেক ছোট ছিল, তবুও প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আমরা কেউ ভিজলাম না। আমি ধন্যবাদ দিইনি।কারন সে আমার খুব ভাল বন্ধুতে পরিণত হয়েছিল।

জিলা স্কুল মাঠে ডিজিটাল মেলা হচ্ছিল। দুজনেই গেলাম আমরা। তার সাথে নাগরদোলা তে উঠতে মন চাচ্ছিল। আমি তাকে বললাম।সে নাগরদোলায় উঠতে প্রচুর ভয় পায়। কিন্তু আমার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে না পেরে রাজি হয়ে গেল। নাগরদোলা ঘুরতে শুরু কর। সে তো ভয়ে এতটুকু হয়ে গেল আর আমার হাত টা শক্ত করে ধরে রাখল। আর আমি তো তখন হাওয়ায় হাওয়ায় উড়তেছি, আমার মনে তখন অন্যরকম অনুভুতি- বলে বোঝাতে পারবনা। নাগরদোলা থেকে নামার পর আমি তাকে বললাম- "সুমি, এ হাত কোনদিন ছিড়ে দেবে না তো?"
-আমাকে বিশ্বাস হয়না তোমার?
-হয়।
-তাহলে?
-আমি তোমাকে ভালবাসি,সুমি।
সুমির মুখে কথা থেমে যায়। তার চোখ অশ্রুতে চকচক করতে থাকে। বলে- আরো আগে বলনি কেন?
-ভয়।
-কিসের ভয়?
-এমনিতেই।
-বুঝেছি, আমাকে চিনতে তোমার তাহলে এত সময় লাগল।
-জানি না। "ভালবাসি বলবেনা"?

আশ্রমপাড়া শিশুপার্কে একটি দোলনাতে বসে আছি গল্প করছি দুজনে। সুমি বলল - এইচএসসি পরীক্ষার পর আমাকে ভুলে যাবে তাই না?
-এত ঠুনকো বিশ্বাস নিয়ে ভালবাসতে নেই, সুমি। তুমি আমার প্রথম ভালবাসা, তুমিই শেষ ভালবাসা। বিশ্বাস কর, তোমাকে আমি ভুলতে পারবনা। এই মরুভুমি হৃদয়ে তোমার জন্য ভালবাসার যে প্রাসাদ গড়েছি তা আমি ভাঙতে পারবনা - অন্তত এই বিশ্বাসটুকু রেখো।

পরীক্ষার পর রংপুর চলে আসি কোচিং করার জন্য। তার নিজস্ব কোন ফোন ছিলনা। তাই মন চাইলেই তার সাথে কথা বলতে পারতাম না। ফলে খুব একটা ভাল যোগাযোগ হত না। তারপর একসময় তার আর কোন খবর পেলাম না। সে নাই হয়ে গেল।
পরে আমি কলেজে তার বান্ধবীেদর সাথে দেখা করলাম। যা জানতে পারলাম তা হল-তার বিয়ে হয়ে গেছে। সে অন্য একজনের সাথে সুখের সংসার রচনা করছে।

আমার মন এটা মেনে নিতে পারেনি কোনদিনই। তবু আমার মন কে কষ্ট পেতে দিলামনা। বললাম - এটা ছিল একটা কানামাছি খেলা, যে খেলায় সুমি আমার জীবন থেকে কানামাছি খেলে ভোঁ দৌড় দিয়ে চলে গেছে। আর আমিতো চোখ বাঁধা-ই রয়ে গেছি।

এরপর, অনেকগুলো চাঁদনিরাত, অনেকগুলো শিশিরভেজা ভোর, অনেকগুলো বৃষ্টিময় দুপুর, স্নিগ্ধ বিকেল সুমিকে ছাড়াই কেটে গেছে। শুধু পাশে ছিল সুমির দেয়া স্মৃতিগুলো, যে স্মৃতি আজো আমার চোখের সামনে দিয়ে বিচরন করে, কিন্তু ধরতে পারিনা।