আষাঢ় গিয়াছে বিদায় নিয়া, শ্রাবণ আসিছে চলি।
আসন পাতিয়া শ্রাবণ এখন মেঘের ঝর্ণা দিয়েছে খুলি।
এমনি করে শ্রাবণ দিনে বৃষ্টি করিছে শুরু।
দিবারাত্রি সদাই ঝড়ে, ডুবিয়ে দিতে মরু।
আজ ক'টা দিন আকাশের বুকে চন্দ্র-সূর্যের রেখা।
মেঘ তাহাদের ঢাকিয়া দিয়াছে, যায়না তাদের দেখা।
আকাশের পানে সবাই চাহে, সূর্য কবে উঠে।
"সূর্য উঠেনা" এই কথাটি তারা সারা গাঁয়ে রটে।
দশদিন গেল, বার দিন গেল, পনের দিনও গেল।
তবুও শ্রাবনের বৃষ্টি পড়ার শেষতো নাহি হল।
দিগন্তজোড়া মাঠখানাতে ভরিয়া গিয়াছে জল।
আইলের ফাকে মোহনার পানি করিতেছে ছলছল।
জলেজলে সবুজ আমন ডুবিয়া গিয়ছে হায়।
তারি মাঝে হেথায় হোথায় সবুজ দেখা যায়।
রাস্তার মাঝে ছোট্ট, সেতু দুই পাশেতে বিল।
তাহার মাঝে যত্বো মাছ করিতেছে কিলবিল।
মাছ ধরিতে গ্রামবাসিতে হয়েছে অনেক ভীড়।
এদিক আবার বিলের পানি চলেছে বেশ ধীর।
লোকেরা সকল জাল ফেলিছে দুই বিলের-ই মাঝ।
জেলের বধু খলই হাতে পাচ্ছে কত লাজ।
ছেলেরা আবার মাছ ধরিছে বড়শি সুতা দিয়া।
কেউ লুটিছে কাহারও মাছ, ঝগড়া বাধিছে এ নিয়া।
মাছ ধরিতে চায় না শুধু, আলসে সব পোলায়।
জেলের সাথে খোশগল্পে সময় কাটিছে হেলায়।
ঘরেঘরে আজ মাছের গন্ধ মুখর করেছে গ্রাম।
সবার ঘরে আনন্দের উৎসব- কত সূখ কত আরাম।
অন্যদিকে তাদের আবার কষ্ট সীমাহীন।
কারো কারো ওলাওঠায় কাটছে রাত্রিদিন।
ওলাউঠা সবাইকে ধরিতে একপাশ দিয়া যায়।
নিয়ম কানুন মানিয়া কেহ সুস্থ থাকিতে চায়।
No comments:
Post a Comment