var uid = '66669';
var wid = '122477';
var uid = '66669';
var wid = '122477';

Feb 11, 2015

একটি সিগারেট ও রাহাত সাহেবের সংসার

রাহাত সাহেব সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের মধ্যেই সিগারেটটা ধরিয়ে ফেললেন। বউ বকাবকি শুরু দিলেন। তোমাকে না কতবার নিষেধ করেছি- ঘরের মধ্যে সিগারেট ধরাবানা?
-তা কোথায় ধরাব শুনি?
-বারান্দা আছে বারান্দায় ধরাবা।
-বারান্দায় শীত করে যে।
-শীত করে, তা আমি কি জানি?
-শীত করে তো ল্যাপের মধ্যে ধরাও।
-হুম তাই করব।
-না তুমি সিগারেট ধরাতে পারবানা। বাসায় কোন সিগারট চলবেনা, খেতে হলে রাস্তার মোড়ে গিয়ে খেয়ে আসতে হবে।
-বাড়িতে খেলে কি করবে তুমি?
-তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিব।
-আমাকে?  হা হা হা। কার বাড়ি কে কাকে তাড়ায়? তুমি কালকে আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।
এবার অনু কথা প্যাচায় না সিরিয়াসলি নিয়ে নেয়।বলে তুমি এভাবে বলতে পারলা।
-হুম, আমার বাড়ি আমি যা ইচ্ছা তাই করব, তুমি চলে যাবে কালকে। তুমি চলে গেলেই আমার শান্তি।
অনু কেঁদেই ফেলে, হ্যা আমি অশান্তি, ঠিক আছে আমি চলে যাব আমার বাবার কাছে, মেয়েদের তো নিজস্ব কোন বাসা থাকে না। বিয়ের আগে বাবার বাসা, বিয়ের পড়ে স্বামীর বাসা।
রাহাত সাহেব বুঝতে পেরেছেন, সিগারেট ফেলে দিয়ে স্ত্রীর কাছে এগিয়ে আসেন, বলেন আরে বোকা আমি সিরিয়াসলি বলছি নাকি, আমরা জাস্ট ফান করছিলাম। তোমার বাড়ি আমার বাড়ি সেতো একই কথা।
-তুমি ধরবে না আমাকে, আমাকে কথা বলবে না। আমার তো বাড়ি নেই। আমি থাকব না তোমার বাসায়।
-আহা আবার সেই পুরোনো কথা। বললাম তো সরি। সরি সরি সরি। এই দেখে কান ধরলাম। দেখো দেখো।
অনু কেঁদেই চলেছে। স্বামীর কথার কোন কর্নপাত নেই তার।
রাহাত সাহেব অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কাজ হলনা। তাই কি আর করা বারান্দায় চেয়ারে হেলান দিয়ে পড়ে থাকলেন। আজ তিনি অফিসে যাবেননা, কারন, এই সকাল বেলায় মনটা খারাপ হয়ে গেল তার। স্ত্রীর সাথে প্রায়ই এমন ছোটখাট ফাইজলামিতেই তাঁর স্ত্রী ঝগড়া বেধে ফেলেন, তাই মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল তার।
তিনি রুমে গিয়ে দেখলেন স্ত্রী মুখভার করে বসে শোফার মধ্যে বসে আছেন আর কোলে দুই বছর বয়সী বাচ্চা রিহান। তিনি বুঝতে পারলেন আজ বাসায় রান্না হবে না। তাই তিনি প্যান্ট পড়ে আর কালো চাদরটা গায়ে জড়িয়ে বেড়িয়ে পড়লেন।
রাস্তার মোড়ের দোকান থেকে রুটি ডিম ভাজি আর ডাল নিয়ে বাসায় ফিরলেন।
তিনি নিজেই গামলা ধুয়ে স্ত্রীর সামনে খাবার নিয়ে বসে পড়লেন। একটা প্লেটে কিছু রুটি ডিম ভাজি আর ডাল এগিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে খেতে বললেন।
রাহাত সাহেব বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে খাওয়া শুরু করে দিলেন। উনার খুব খিদে পেয়ছিল তাই খুব দ্রুত খেতে লাগলেন আর ফাকে ফাকে রিহানকে খাইয়ে দিলেন। রিহানের পেট ভরে গিয়ছে, কারন শেষের দিকে সে খাইতে অস্বীকৃতি জানাল।তিনি লক্ষ্য করলেন উনার স্ত্রী খাচ্ছেন না।
বললেন- কি হল খাচ্ছ না কেন?
নাহ তিনি কেঁদেই চলেছেন। তাঁর মনের আকাশ এখনো কালো মেঘে ঢাকা ই রয়েছে। বৃষ্টি থামার কোন নামই নেই।
রাহাত সাহেব হাত ধুলেন।খেয়ে তৃপ্তি পেলেন কিনা বোঝা গেল না।
রিহানকে শোফায় বসিয়ে দিলেন। হাতে একটুকরা রুটি ডালের সাথে ভিজিয়ে  বললেন নাও খাও। অ্যানি তো খেলেনই না বরং খাব না তোমার খাবার বলে চিতকার দিয়ে রুটি ডালের প্লেট ছুড়ে মেঝের মধ্যে ফেলে দিলেন।
রাহাত আর শান্ত থাকতে পারলেন না।তিনি ও স্ত্রীর গালে কষে একটা চর বসিয়ে দিলেন। সাথে সাথে রিহানও কান্নাকাটি শুরু করে দিল।
তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে পড়লেন। তবে নিশ্চিত থাকলেন যে, তার স্ত্রী আজ যাবেনা কোথাও কারন তার কাছে ভাড়ার টাকাটাও নেই।
রাহাত সাহেব স্ত্রীকে চড় মারার কারনে সারাদিন অনুশোচনায় ভুগেছেন। বিকেলে বাসায় ফিরলেন। বউয়ের মুখোমুখি হলেন না।কারন তাকে দেখে বউয়ের রাগ বেড়ে যেতে পারে। আড়াল থেকে দেখলেন বউ তার বাচ্চার মাথায় হাত বুলাচ্ছে আর বাচ্চা ঘুমাচ্ছে। রান্নাঘরে গিয়ে রান্না হয়েছে দেখে প্রসন্ন হলেন। কিন্তু তিনি ভাত খেলেন না। বাইরে থেকে খেয়ে এসেছেন। তাই তিনি অন্য একটা রুমে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লেন।
প্রায়ই ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি, এমন সময় বউয়ের ডাক- এই শোন, বাবুর জ্বর এসেছে মনে হয়।
-কই দেখি?
তিনি বাচ্চার কপালে হাত দিয়ে বুঝতে পারলেন জ্বর এসেছে।
বাচ্চার শরীর পুড়ে গেলেও সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত দেখে তিনি পুলকিত হলেন।
স্ত্রীকে বললেন- বাবুকে নাও চল ডাক্তারের কাছে যাই।
- তুমিই যাও বাবুকে নিয়ে, আমার মাথাটা ভারী ভারী লাগছে।
-চল, বাইরে থেকে বেরিয়ে আসলে ভাল লাগবে।
-না, তুমি যাও।
-আচ্ছা। (নরম গলায়)।
রাতে দুজনে শুয়ে পড়লেন।
অনুর কন্ঠ- কাল তুমি আমাকে দুশ টাকা দিতে পারবা?
-হুম পারব।(তিনি কারন জিজ্ঞেস করলেন না)।
কেউ কোন কথা বলছেন না। কিছুক্ষন নিরব থাকার পর অনু বললেন- কালকে বাড়ি যাব(বাবার বাড়ি)।
-হু, ভাল। কবে ফিরবা?
-তোমার সাথে আমার আর দেখা হচ্ছে না, রাহাত।
-কেন?
-এমনিতেই।
-হু, রাগ ঠান্ডা হয়নি এখনো? সকালে যা হয়েছে ভুলে যাওয়া যায়না?
-কথা সেটা না রাহাত। অনেক ভেবে দেখলাম। তোমার সাথে  আমার আর যায়না। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না রাহাত। আমি চাই তুমি স্বাধীন জীবনযাপন কর তোমার মত করে।
বিয়ের চারটা বছর গেলেও আমি তোমাকে শান্তি নামক জিনিসটাই দিতে পারিনি। তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো।এজন্য তোমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কিনতু আমি সবসময় তোমার সাথে কেমন মনোমালিন্য টাইপের আচরন করি তা নিশ্চয় তুমি ভুলে যাওনি?
- কই কখন তুমি কি করেছ? আমার তো মনে পড়ছে না।
-যেমন ধরো, তোমার সাথে তোমার সেই কলিগ মেয়েটাকে নিয়ে সবসময় সন্দেহ করি।ফেসবুকে তোমার স্ট্যটাসে মেয়েদের লাইক কমেন্ট দেখে আমি তোমার সাথে রাগারাগি করি। কোনদিন রাতে দেরি করে বাসায় ফিরলে উল্টাপাল্টা অনেক জিজ্ঞাসা করি।তারপর পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম বলে বিয়ের চার বছরেও আমার বাবা এখনো তোমাকে জামাই হিসেবে মেনে নেয় নি।আর তুমিও কখনো তোমার শশুরবাড়ি যাওনি। তোমাকে সবসময় বকাবকি করি। তারপর..
-(রাহাত কথা কেড়ে নেয়)। দেখ, বাচ্চা কান্নাকাটি করবে, বউ বকাবকি করবে, অন্য মেয়েকে নিয়ে সন্দেহ করবে- এর ই নাম তো সংসার। সন্দেহ করার মানে এই নয় যে তুমি আমাকে পীড়া দিচ্ছ, তুমি আমাকে ভালবাস বলেই তো সন্দেহ করছ, তাই না? আর তোমার বাবা আমাকে মেনে নেয়নি বলে তুমিও আমাকে তোমার জামাই হিসেবে মেনে নিতে চাচ্ছ না?
(দুজনেই হেসে ফেলে) এখন আর কথা হবে না ঘুমিয়ে পড়তে হবে।আর কাল সকালে কোথায় যাবে যেও।
-তুমি আবার ফাইজলামি করছো। বিষয়টা সিরিয়াসলি নিচ্ছ না কেন?
রাহাত আর কথা বাড়ায় না, ঘুমানোর চেষ্টা করে। বিষয়টা উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু মনের কোনে অজানা ব্যাথা উঠতে শুরু করে।
সকাল হলে তিনি স্ত্রীকে বলেন-
চল, একসাথে বের হই। আমি তোমাকে বাসে তুলে দিয়ে অফিসে যাব।
-তুমি অফিসে চলে যাও। আমি একটু পড়ে যাব।
রাহাত একটা এক হাজার আর দুটা একশ টাকার নোট বউয়ের হাতে দিয়ে বলেন- এই নাও।আর তাড়াতাড়ি চলে এসো। আমার একা একা ভাল লাগবে না।
অনুর মুখে কোন কথা নেই দেখে রাহাতের বুকের ভিতরটা ডুকরে উঠে।
রিহানকে একটা চুমু দিয়ে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।
তিনি দুপুরে অনুকে ফোন দিলে অনু তা রিসিভ করেননি। তাই তিনি লাঞ্চ আওয়ারে বাসা চলে আসেন। আজ তিনি চাবি দিয়ে বাসার দরজা খুললেন। ঘরের ভিতর ঢুকতেই উনার বুকটা খালি হয়ে যায়। এর আগেও অনু বাবার বাড়ি গিয়েছিল, কিন্তু তখন এতটা শুন্যতা কাজ করেনি। একি! অনু তার কোন কিছুই রেখে যায় নি? সব নিয়ে গেছে? এমনকি ওয়ালে টাঙ্গানো ফ্রেমে বন্দী ছবিটাও? চারদেয়ালের দিকে তাকালেন। শুধু হাহাকারই দেখতে পেলেন।
টেবিলে একটি চিঠি দেখতে পেলেন।
"রাহাত,
তোমার সাথে আমার আর কখনো দেখা হবে না। দয়া করে কখনো দেখা করার চেষ্টা করো না, কখনো ফোন করার চেষ্টা করোনা। আমি সারাজীবনেরর জন্য তোমার কাছে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি। বাবুর জন্য চিন্তা করোনা। ও আমার কাছে সবচেয়ে ভাল থাকবে। আর আমি তোমার বাসায় এমন কিছু রাখিনি যা দেখে তোমার কষ্ট বাড়বে।
ভালো থেকো।"
রাহাত অনুকে কয়েকবার ফোন করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।নাম্বার বন্ধ।
তাই তিনি এমএমএস লিখলেন -
"অনু,
পাগলামি করো না। পাগলামি টা একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না?
আর তুমি আমাকে এভাবে ছেড়ে গেলে আমি বাচব কি করে? আর বাবুকে না দেখে আমি থাকব কি করে? যার সকালবেলার কান্নাকাটি আর তোমার বকাবকিতে আমার সকালের ঘুম ভাঙ্গে। তুমি আমাকে কখনো জ্বালাওনি। বিশ্বাস কর, বাবুর কান্নাকাটি আর তোমার বকাবকিতে আমার জীবন ছন্দময় হয়ে উঠেছে।আমি তোমাকে পুর্বেই বলেছি- এসব ই সংসার। তোমাদের দুজন কে বাদ দিয়ে আমি আমার জীবন কখনো ভাবিনি আর ভাবতেও পারিনা। বিয়ের আগে তিন বছর আর আর বিয়ের চার বছর মোট সাত বছর আমি কিভাবে জীবন থেকে বাদ দিব? আমি পারব না। "
মেসেজ সেন্ট হলো না, পেন্ডিং দেখাল।
বিষন্নভাবে সময়গুলো পার করতে লাগলেন তিনি। প্রতিমুহূর্তে তিনি অনুর সাথে মনে মনে কথা বলছেন আর তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন।
রাতে ঘুমানোর আগে তিনি ফেসবুকে ঢুকলেন। অনুর প্রোফাইল সার্চ দিলেন। কিন্তু পেলেন না। সম্ভবত ব্লক খেয়েছেন।
প্রায় দুই সপ্তাহ গেলেও তিনি অনুর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন নি।
এবার তিনি ফেসবুকে একটি ফেইক আইডি খুলে অনুকে নক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নক করা গেল না। কারন অনু আইডি ডিএক্টিভেট করে রেখেছেন।
আজ তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন সকল গ্লানি ভুলে প্রথমবারের মত শশুরবাড়ি যাবেন।
শশুরবাড়িতে গেলে শাশুড়ি এবং শ্যালক রাহাতের সাথে ভাল আচরন করেন। শশুরমশাই বাড়িতে ছিলেন না। খাওয়া দাওয়া হওয়ার পর রাহাত  কাহিনী খুলে বলেন। এবং জিজ্ঞাসা করেন -অনু এখানে এসেছে কি না?
শ্যালক: দুলাভাই, আপুতো এসেছিল, কিন্তু, আসার আটদিন পর ঢাকা গেছে। ওখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন। আপাতত ওখানেই আছে। কি একটা চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়েছে।
-ওর সাথে যোগাযোগ করার কোন উপায় আছে কি?
-আপনি এই নাম্বারে (একটি নাম্বার দেখিয়ে দিয়ে) ফোন দিলে তাকে পাবেন।
রাহাত সাহেব বাসা চলে আসেন। অনুকে ফোন করার ইচ্ছে করছে, কিন্তু করলেন না, ফোন করলে অনুর রাগটা বেড়ে যেতে পারে। আগে ওর রাগ ঠান্ডা হোক তারপর না হয় ফোন দেয়া যাবে।
তবে তিনি এর ফাকে ফাকে শ্যালক কে ফোন করে অনু আর রিহানের খোজ খবর রাখতেন।
আরো দু সপ্তাহ পরে তিনি শশুরবাড়ি গিয়ে এনির সাথে দেখা করেন।এবার এনির সাথে গল্প করার সুযোগ হয় তাঁর। রিহান বাবাকে দেখতে পেয়ে আব্বু বলে চিৎকার দিয়ে বাবার কোলে ঝাপিয়ে পড়ে। বাবাকে সে অনেকগুলো চুমু দিতে থাকে।বাবাও তাকে চুমু শোধ করে দেয়।
রিহান জিজ্ঞাসা করে- আব্বু, তুমি এতদিন তুমি আমাকে কেন দেখতে আসোনি?
-এইতো এসেছি বাবা।
অনু কথা ঘুরায়- কেন এসেছ?
-তার আগে বল কেমন আছো?
অনু: ভাল, তুমি?
-এখন ভাল আছি। দেখো অনু, আমি পুর্বের কথা টানব না। শুধু এতটুকু বলব। বাবুকে তুমি সবই দিতে পারবা হয়তো। শুধু দিতে পারবানা বাবার ভালবাসা, স্নেহ-আদর। আর ওকে বাবার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করার অধিকার তোমার নেই।  সুতরাং পুর্বের সবকিছু ভুলে চলনা নতুন করে সবকিছু শুরু করি।
অনু আর কথা বাড়ায় না। এসব কথা রাহাত না বললেও হত।অনু আশা করেছিল রাহাত তাকে নিতে আসুক। কারন দীর্ঘ একমাসের ব্যবধানে রাগ-অভিমান গলে পানি হয়ে গেছে।
দুজনের চোখ অশ্রুতে চকচক করতে লাগল।
অনু বলল-তুমি একটু বস। আমি রেডি হয়ে আসছি।

1 comment:

  1. ভিরিয়ন।। মুক্তির মিছিলে বিজ্ঞান
    http://jahangirjust.wordpress.com

    ReplyDelete